সর্বশেষ সংবাদ

ভারতকে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক করতে হবে: তথ্য উপদেষ্টা

লেখক: বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
প্রকাশ: August 12, 2026

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকাঃ

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নতুনভাবে ‘রিঅ্যালাইন’ করতে হবে। তিনি বলেন, প্রতিবেশী পরিবর্তন করা যায় না, তবে বন্ধু পরিবর্তন করা যায়। তাই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক থাকবে; তবে তা হতে হবে দুই দেশের স্বাধীন, সার্বভৌম ও আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্রের পারস্পরিক স্বার্থ ও মর্যাদার ভিত্তিতে। আগে ভারত যেভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে চেয়েছিল, সেখানে নির্দিষ্ট একজন ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রবণতা ছিল। ভবিষ্যতে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সরকারের সঙ্গে নয়, বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক তৈরি হতে হবে। সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, এখন অন্তত জনগণের সঙ্গে সম্পর্কের কথা বলার বিষয়টি দেখছি ভারতের। এটি ইতিবাচক। একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও আত্মমর্যাদাশীল দেশের সঙ্গে যেভাবে আচরণ করতে হয়, সেভাবেই সম্পর্ক পরিচালনা করতে হবে। ভারতের নিরাপত্তা নিয়ে তাদের বক্তব্য থাকতে পারে, আমাদেরও থাকতে পারে। এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। কিন্তু দুই স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের মধ্যে যে ধরনের আলোচনা হওয়া উচিত, সেভাবেই হতে হবে। এ বিষয়টি নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।

উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থের বাইরে গিয়ে কোনো সম্পর্ক তৈরি করা হবে না। জনগণের নির্বাচিত সরকার কোনো দেশের সঙ্গে এমন কোনো সম্পর্ক তৈরি করবে না, যাতে দেশের জনগণ বা রাষ্ট্রের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সরকার জনগণ ও রাষ্ট্রের স্বার্থ নষ্ট করে কারও সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করবে না। এ নিয়ে কোনো এদিক-সেদিক হওয়ার সুযোগ নেই। ভারতের পাশাপাশি বিশ্বের অন্য দেশগুলোর সঙ্গেও সম্পর্কের ক্ষেত্রে একই নীতি অনুসরণ করা হবে। তিনি বলেন-অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রয়োজনেই বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের এনগেজমেন্ট থাকবে। তবে প্রতিটি সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

ভারতের সাম্প্রতিক বক্তব্য প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী বক্তব্যেও বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারের বিষয়ে আগের বক্তব্যের সঙ্গে একমত না হওয়ার একটি ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভারত বাংলাদেশের নতুন বাস্তবতা বুঝবে এবং গত ১৭ বছরে যেভাবে সম্পর্ক পরিচালিত হয়েছে, তার বাইরে গিয়ে নতুনভাবে সম্পর্ক গড়ে তুলবে। ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের বাংলাদেশ সফর নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা ও জল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের সফরকে অযথা রহস্যজনক হিসাবে দেখার সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনা থাকা স্বাভাবিক। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সফরের আমন্ত্রণের বিষয়টি আগে থেকেই রয়েছে। তবে কবে সফর হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

সরকারের ১৮০ দিন পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন কিনা এমন প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, এ ধরনের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, ১৮০ দিন উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী জাতিকে অ্যাড্রেস করবেন এমন একটা সম্ভাবনা আছে। তবে এখনো সবকিছু চূড়ান্ত হয়নি।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান-বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি), প্রেস কাউন্সিল ও তথ্য কমিশনে দৃশ্যমান পরিবর্তন না আসায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার কোনো ধরনের হটকারী সিদ্ধান্ত নিতে চায় না। একটি রাষ্ট্রের বিভিন্ন মতাদর্শ ও চিন্তার মানুষ সরকারি দায়িত্বে থাকতে পারেন। যতক্ষণ পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক সংশ্লিষ্টতা না থাকে, ততক্ষণ শুধু রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কাউকে সরিয়ে দেওয়া সরকারের নীতিগত অবস্থান নয়। যারা আগের সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন এবং সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সরাসরি ভূমিকা রেখেছেন, তাদের বিষয়ে ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহণ, বিতরণ ও বিপণন নিয়ে প্রস্তাবিত নীতিমালা প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে। জরুরি বা সংকটকালীন সময়ে সরকারি ব্যবস্থার পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সক্ষমতা কাজে লাগানোই প্রস্তাবিত নীতিমালার অন্যতম উদ্দেশ্য। কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশে এ নীতিমালা করা হচ্ছে না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।