সর্বশেষ সংবাদ

তাকদির: কোরআন ও হাদিসের আলোকে আলোচনা

লেখক: জহির উদ্দিন মাহমুদ
প্রকাশ: September 24, 2026

জহির উদ্দিন মাহমুদঃ

ইসলামের মৌলিক আকিদাসমূহের অন্যতম হলো তাকদিরে বিশ্বাস। ঈমানের ছয়টি মৌলিক বিষয়ের মধ্যে তাকদিরের প্রতি বিশ্বাস একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মানুষের জীবনে সুখ-দুঃখ, লাভ-ক্ষতি, জীবন-মৃত্যু, রিজিক ও বিভিন্ন ঘটনা আল্লাহ তাআলার জ্ঞান ও ইচ্ছার বাইরে নয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে মানুষ তার কাজের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বাধ্য এবং তার কোনো ইচ্ছা বা দায়িত্ব নেই। ইসলাম মানুষকে সঠিক পথ বেছে নেওয়া, চেষ্টা করা এবং নিজের কর্মের জন্য জবাবদিহির শিক্ষা দিয়েছে।
তাকদিরের সঠিক ধারণা মানুষকে বিপদে ধৈর্যশীল, নিয়ামতে কৃতজ্ঞ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে আল্লাহর ওপর ভরসাশীল করে তোলে।

তাকদির কী?

‘তাকদির’ শব্দের অর্থ হলো নির্ধারণ, পরিমাপ বা নির্ধারিত ব্যবস্থা। ইসলামী পরিভাষায় তাকদির বলতে বোঝায়—আল্লাহ তাআলা তাঁর অসীম জ্ঞান ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে সৃষ্টিজগতের সবকিছু সম্পর্কে পূর্ব থেকেই অবগত এবং তাঁর নির্ধারণ ও ইচ্ছা অনুযায়ী সৃষ্টিজগতে ঘটনাবলি সংঘটিত হয়।

আল্লাহ তাআলা বলেন—
“নিশ্চয়ই আমি প্রত্যেক বস্তু সৃষ্টি করেছি নির্ধারিত পরিমাণ অনুযায়ী।”
—সূরা আল-কামার: ৪৯
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, পৃথিবী ও আসমানের কোনো কিছুই আল্লাহর জ্ঞান ও নির্ধারণের বাইরে নয়।
ঈমানের ছয়টি বিষয় এবং তাকদির
হজরত জিবরাইল (আ.)-এর বিখ্যাত হাদিসে রাসুলুল্লাহ ﷺ ঈমানের বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, ঈমান হলো—
১. আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা
২. তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান আনা
৩. তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান আনা
৪. তাঁর রাসুলদের প্রতি ঈমান আনা
৫. আখিরাতের প্রতি ঈমান আনা
৬. তাকদিরের ভালো-মন্দের প্রতি ঈমান আনা।
—সহিহ মুসলিম
অতএব, তাকদিরে বিশ্বাস করা ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

কোরআনের আলোকে তাকদির

১. সবকিছু আল্লাহর জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত
আল্লাহ তাআলার জ্ঞান সীমাহীন। অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ—সবকিছুই তাঁর জ্ঞানের মধ্যে রয়েছে।
আল্লাহ বলেন—
“তাঁর কাছে গায়েবের চাবিকাঠি রয়েছে; তিনি ছাড়া কেউ তা জানে না। স্থল ও সমুদ্রের সবকিছুই তিনি জানেন।”
—সূরা আল-আনআম: ৫৯
মানুষের জ্ঞান সীমিত, কিন্তু আল্লাহর জ্ঞান সর্বব্যাপী। তাই তাকদিরের অনেক বিষয় মানুষের বোধগম্য না হলেও তা আল্লাহর জ্ঞানের বাইরে নয়।
২. পৃথিবীতে সংঘটিত কোনো ঘটনাই আল্লাহর জ্ঞানের বাইরে নয়
আল্লাহ তাআলা বলেন—
“পৃথিবীতে এবং তোমাদের নিজেদের মধ্যে যে বিপদই আসে, তা সংঘটিত করার পূর্বেই কিতাবে লিপিবদ্ধ থাকে।”
—সূরা আল-হাদিদ: ২২
এরপর আল্লাহ বলেন—
“যাতে তোমরা যা হারিয়েছ তার জন্য অতিরিক্ত দুঃখিত না হও এবং যা তিনি তোমাদের দিয়েছেন তার জন্য অহংকার না করো।”
—সূরা আল-হাদিদ: ২৩
এই আয়াত তাকদিরের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। কোনো কিছু হারালে মুমিন ধৈর্য ধারণ করবে এবং কোনো নিয়ামত পেলে অহংকার করবে না।
৩. আল্লাহর ইচ্ছার বাইরে কিছু ঘটে না
আল্লাহ তাআলা বলেন—
“তোমরা ইচ্ছা করতে পার না, যদি না আল্লাহ ইচ্ছা করেন।”
—সূরা আল-ইনসান: ৩০
এই আয়াত আল্লাহর সর্বময় ক্ষমতার কথা প্রকাশ করে। তবে এর অর্থ মানুষের ইচ্ছা ও কর্মের কোনো মূল্য নেই—এমন নয়। মানুষ নিজের ইচ্ছায় ভালো-মন্দের মধ্যে নির্বাচন করে এবং সেই নির্বাচনের জন্য তাকে জবাবদিহি করতে হবে।
৪. মানুষকে তার চেষ্টা করতে হবে
ইসলাম তাকদিরের অজুহাতে কর্মবিমুখ হতে শেখায়নি। বরং মানুষকে চেষ্টা করতে বলা হয়েছে।
আল্লাহ বলেন—
“মানুষ তাই পায়, যার জন্য সে চেষ্টা করে।”
—সূরা আন-নাজম: ৩৯
এই আয়াত আমাদের শেখায়, তাকদিরে বিশ্বাস মানে বসে থাকা নয়। বরং নিজের দায়িত্ব পালন করা, পরিশ্রম করা এবং ফলাফল আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেওয়া।

হাদিসের আলোকে তাকদির

১. তাকদিরে বিশ্বাস ঈমানের অংশ
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, ঈমানের অন্তর্ভুক্ত হলো তাকদিরের ভালো ও মন্দ—উভয়ের প্রতি বিশ্বাস করা।
—সহিহ মুসলিম
অতএব, তাকদিরকে অস্বীকার করা ইসলামী আকিদার পরিপন্থী।
২. আল্লাহ মানুষের তাকদির সম্পর্কে অবগত
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, মানুষের সৃষ্টি-সংক্রান্ত বিষয়গুলো ফেরেশতা লিখে দেন—তার রিজিক, আয়ু, আমল এবং সে সৌভাগ্যবান না দুর্ভাগ্যবান—এসব বিষয় আল্লাহর নির্দেশে লিপিবদ্ধ করা হয়।
—সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম
এ থেকে বোঝা যায়, মানুষের জীবনের বিভিন্ন বিষয় আল্লাহর জ্ঞান ও নির্ধারণের অধীন।
তাকদিরে বিশ্বাসের অর্থ কি মানুষ কিছুই করবে না?
এটি তাকদির সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
কেউ যদি বলে, “সবকিছু যেহেতু তাকদিরে লেখা আছে, তাই আমি কোনো চেষ্টা করব না”—তাহলে এটি ইসলামের শিক্ষা নয়।
একবার সাহাবিরা রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন—যদি সবকিছু পূর্বনির্ধারিত হয়ে থাকে, তাহলে কি আমরা আমল ছেড়ে দেব?
রাসুলুল্লাহ ﷺ তাদের আমল করতে নির্দেশ দেন। তিনি শিক্ষা দিয়েছেন, প্রত্যেকের জন্য তার কাজ সহজ করে দেওয়া হয়।
—সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম
অর্থাৎ তাকদিরের ওপর বিশ্বাস রেখে মানুষকে তার সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করতে হবে।
তাওয়াক্কুল ও তাকদির
তাকদিরে বিশ্বাসের সঙ্গে তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর ওপর ভরসার গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
“তুমি যা তোমার জন্য উপকারী, তা অর্জনের জন্য আগ্রহী হও; আল্লাহর সাহায্য চাও এবং অক্ষম হয়ে বসে থেকো না।”
—সহিহ মুসলিম
এ হাদিসে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে—
উপকারী কাজের চেষ্টা করতে হবে।
আল্লাহর সাহায্য চাইতে হবে।
ব্যর্থতার কারণে অসহায় হয়ে বসে থাকা যাবে না।
অতএব, একজন মুমিনের জীবন হবে চেষ্টা + দোয়া + তাওয়াক্কুল-এর সমন্বয়।
বিপদ-আপদে তাকদিরের শিক্ষা
জীবনে বিপদ আসতেই পারে। অসুস্থতা, আর্থিক ক্ষতি, প্রিয়জন হারানো, পরীক্ষায় ব্যর্থতা কিংবা অন্য কোনো দুঃখ—সবই মানুষের জীবনের অংশ।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
“মুমিনের বিষয়টি আশ্চর্যজনক! তার সব অবস্থাই তার জন্য কল্যাণকর। এটি মুমিন ছাড়া অন্য কারও জন্য নয়। সে সুখ পেলে শুকরিয়া আদায় করে, আর তা তার জন্য কল্যাণকর। আর দুঃখ-কষ্টে আক্রান্ত হলে ধৈর্য ধারণ করে, সেটিও তার জন্য কল্যাণকর।”
—সহিহ মুসলিম
তাই মুমিন বিপদের সময় হতাশ হয়ে পড়ে না। সে জানে, আল্লাহর জ্ঞান ও হিকমতের বাইরে কোনো ঘটনা ঘটেনি।
বিপদে “যদি এমন করতাম” বলা থেকে শিক্ষা
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
“যদি তোমার কোনো বিষয়ে বিপদ ঘটে, তবে বলো না—‘আমি যদি এমন করতাম, তাহলে এমন হতো।’ বরং বলো—‘আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছেন এবং তিনি যা চেয়েছেন তাই হয়েছে।’ কারণ ‘যদি’ শব্দটি শয়তানের কাজের দরজা খুলে দেয়।”
—সহিহ মুসলিম
এর অর্থ হলো, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া যাবে না—এমন নয়। বরং অকারণে অতীত নিয়ে আফসোস করে নিজেকে ভেঙে না ফেলে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

তাকদির ও মানুষের দায়িত্ব

ইসলামে তাকদিরের প্রতি বিশ্বাস এবং মানুষের দায়িত্ব—দুটির মধ্যে ভারসাম্য রয়েছে।
মানুষকে—
ভালো কাজ করার চেষ্টা করতে হবে।
অন্যায় থেকে দূরে থাকতে হবে।
নিজের ভুলের জন্য তওবা করতে হবে।
জীবিকা অর্জনে পরিশ্রম করতে হবে।
অসুস্থ হলে চিকিৎসা নিতে হবে।
পরীক্ষার জন্য পড়াশোনা করতে হবে।
বিপদে আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে।
ফলাফল আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিতে হবে।
কেউ অন্যায় করে বলতে পারে না, “এটি আমার তাকদিরে ছিল, তাই আমি দায়ী নই।” কারণ মানুষ নিজের ইচ্ছায় কাজ করে এবং তার কাজের জন্য তাকে জবাবদিহি করতে হবে।

রিজিক ও তাকদির

রিজিক আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে মানুষ কাজ করবে না।
আল্লাহ বলেন—
“পৃথিবীতে বিচরণকারী এমন কোনো প্রাণী নেই যার রিজিক আল্লাহর দায়িত্বে নেই।”
—সূরা হুদ: ৬
একই সঙ্গে ইসলাম মানুষকে হালাল পথে রিজিক অনুসন্ধান করতে শিক্ষা দিয়েছে।
তাই একজন মুসলমানের কর্তব্য হলো—হালাল উপায়ে চেষ্টা করা, পরিশ্রম করা এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা।
মৃত্যু ও তাকদির
প্রত্যেক মানুষের মৃত্যুর সময় আল্লাহর জ্ঞানে নির্ধারিত।
আল্লাহ বলেন—
“প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।”
—সূরা আলে ইমরান: ১৮৫
তাই মৃত্যু অনিবার্য। তবে মৃত্যুর সময় কেউ জানে না। এজন্য মুমিনকে সবসময় নেক আমল, তওবা ও আল্লাহর আনুগত্যের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

তাকদিরে বিশ্বাসের উপকারিতা

১. অন্তরে শান্তি আসে
তাকদিরে বিশ্বাস মানুষকে অস্থিরতা ও অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা থেকে রক্ষা করে। সে জানে, আল্লাহ তার অবস্থা সম্পর্কে অবগত।
২. বিপদে ধৈর্য আসে
মুমিন বিপদের সময় বিশ্বাস করে যে আল্লাহর হিকমত রয়েছে। ফলে সে ধৈর্য ধারণ করে।
৩. নিয়ামতে অহংকার কমে
সফলতা এলে সে মনে করে—এটি আল্লাহর দান। ফলে অহংকারের পরিবর্তে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
৪. ব্যর্থতার পর নতুন করে চেষ্টা করার শক্তি পাওয়া যায়
একটি কাজে ব্যর্থ হলেই জীবন শেষ নয়। মুমিন শিক্ষা নেয়, আল্লাহর কাছে সাহায্য চায় এবং আবার চেষ্টা করে।
৫. আল্লাহর ওপর ভরসা বৃদ্ধি পায়
তাকদিরের প্রতি বিশ্বাস বান্দাকে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে সাহায্য করে।

তাকদির সম্পর্কে কিছু ভুল ধারণা

ভুল ধারণা ১: তাকদির মানে কিছুই করার দরকার নেই
এটি ভুল। ইসলাম চেষ্টা ও দায়িত্ব পালনের শিক্ষা দেয়।
ভুল ধারণা ২: সব ভুলের দায় তাকদিরের
এটিও ভুল। মানুষ নিজের ইচ্ছায় যে কাজ করে তার জন্য জবাবদিহি করবে।
ভুল ধারণা ৩: দোয়া করার কোনো প্রয়োজন নেই
এটিও ভুল। ইসলাম দোয়া করতে উৎসাহিত করেছে। আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া নিজেই ইবাদত।
ভুল ধারণা ৪: বিপদ এলে হতাশ হতে হবে
বরং বিপদের সময় ধৈর্য, দোয়া ও আল্লাহর ওপর ভরসা করতে হবে।

তাকদির ও দোয়া

দোয়া মুমিনের অন্যতম শক্তি। মানুষ ভবিষ্যৎ জানে না, কিন্তু আল্লাহ সব জানেন। তাই বান্দা নিজের প্রয়োজন আল্লাহর কাছে পেশ করবে।
আল্লাহ বলেন—
“তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।”
—সূরা গাফির: ৬০
সুতরাং তাকদিরে বিশ্বাস কখনো দোয়া থেকে বিরত থাকার কারণ হতে পারে না।

তাকদির ও সবর-শুকর

মুমিনের জীবনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ গুণ হলো সবর ও শুকর।
সুখের সময়—শুকর।
দুঃখের সময়—সবর।
সাফল্যের সময়—বিনয়।
ব্যর্থতার সময়—আশা।
চেষ্টার সময়—তাওয়াক্কুল।
ভুলের পর—তওবা।
এই ভারসাম্যপূর্ণ জীবনই তাকদিরে বিশ্বাসের সৌন্দর্য প্রকাশ করে।
আমাদের জীবনে তাকদিরের বাস্তব শিক্ষা
তাকদিরে বিশ্বাস আমাদের অলস করবে না; বরং দায়িত্বশীল করবে। একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষার আগে পড়াশোনা করবে, একজন কৃষক জমিতে পরিশ্রম করবে, একজন ব্যবসায়ী বৈধ উপায়ে ব্যবসা করবে এবং একজন অসুস্থ ব্যক্তি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেবে। এরপর ফলাফল আল্লাহর হাতে ছেড়ে দিতে হবে।
অর্থাৎ—
চেষ্টা আমার,
ফলাফল আল্লাহর হাতে।
এই বিশ্বাস মানুষকে একই সঙ্গে পরিশ্রমী ও আল্লাহনির্ভর করে তোলে।

পরিশেষে বলা যায় যে, তাকদির ইসলামী আকিদার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাকদিরে বিশ্বাসের অর্থ এই নয় যে মানুষ নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে থাকবে। বরং একজন মুমিন তার সাধ্য অনুযায়ী সৎ ও বৈধ পথে চেষ্টা করবে, আল্লাহর কাছে দোয়া করবে, তাঁর ওপর ভরসা করবে এবং ফলাফল মেনে নেবে। সাফল্য এলে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করবে, ব্যর্থ হলে শিক্ষা নিয়ে আবার চেষ্টা করবে। বিপদ এলে ধৈর্য ধারণ করবে এবং আনন্দ এলে অহংকার করবে না।
তাকদিরের সঠিক শিক্ষা হলো—আল্লাহর জ্ঞানের ওপর বিশ্বাস, নিজের দায়িত্ব পালন, সৎ পথে চেষ্টা, দোয়া, তাওয়াক্কুল, সবর ও শুকর।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে তাকদিরের সঠিক আকিদা বুঝে তার ওপর ঈমান রাখার এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর ওপর ভরসা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

জহির উদ্দিন মাহমুদ

জহির উদ্দিন মাহমুদ

সম্পাদক ও প্রকাশক