
চাঁদের বুড়ির চিঠি-২
——- এম জেড মাহমুদ।
রুপা সেদিন রাতে অনেক দেরি করে ঘুমিয়েছিল। বাবা বাড়ি ফেরায় বাড়িটা কেমন গমগম করছিল। সবাই গল্প করছিল। রুপা চুপিচুপি জানালার পাশে কাগজ-কলম রাখতে ভোলেনি।
সকালে ঘুম ভাঙতেই দেখে, বালিশের পাশে সেই চেনা সাদা খাম।
খুলতেই ভেতর থেকে ছোট্ট একটা কাগজের নৌকা বের হল। আর চিঠিতে লেখা:
“প্রিয় রুপা,
শুনলাম তোমার বাবা ফিরেছে। বাড়িটা আজ হাসির শব্দে ভরা, তাই না? আমারও খুব ভালো লাগছে।
তুমি বড় হচ্ছ। একদিন তুমিও হয়তো অন্য কাউকে গল্প শোনাবে।
আজকের কাজ: নদীর পাড়ে গিয়ে তোমার কাগজের নৌকাটা ভাসিয়ে দাও। নৌকার গায়ে একটা ইচ্ছা লিখে দিও। আমি সেটা তারা হয়ে আকাশে টাঙিয়ে দেব।
আর হ্যাঁ, মাঝে মাঝে মন খারাপ হলে আকাশের দিকে তাকিও। আমি ওখানেই থাকব।
ইতি,
চাঁদের বুড়ি
পুনশ্চ: বেলি ফুলের গন্ধটা রেখে দিলাম তোমার বইয়ের ভাঁজে।”
রুপা দৌড়ে বই খুলে দেখে, সত্যি একটা বেলি ফুলের পাপড়ি।
বিকেলে নদীর পাড়ে গিয়ে নৌকায় লিখল “সবাই যেন ভালো থাকে”। নৌকা ভাসিয়ে দিতেই পানিতে চাঁদের আলো পড়ে ঝিকমিক করছিল। মনে হল দূর আকাশ থেকে কেউ হাত নাড়ছে।
তারপর থেকে রুপা আর চিঠির অপেক্ষা করে না। কারণ সে বুঝে গেছে, কিছু বন্ধুত্ব দূর থেকেই সুন্দর।