লক্ষ্মীপুরে মধ্য চরউভূতি সপ্রাবির তিন সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষকের অভিযোগ, তদন্তের দাবি
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ৯নং ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের মধ্য চরউভূতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিন সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে অসদাচরণ, মানসিক হয়রানি, দায়িত্ব পালনে বাধা, হুমকি ও বিদ্যালয়ের পরিবেশ বিঘ্নিত করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তরা হলেন, (১) রেহানা আক্তার, (২) আকলিমা বেগম, (৩) জান্নাত জাহান। এ বিষয়ে যথাযথ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এনাময়েত হোসেন।
আবেদনটি লক্ষ্মীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বরাবর করা হয়েছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পৌঁছানোর জন্য উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার দিলরুবা লাইলী এর কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
এই লিখিত অভিযোগে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এনায়েত হোসেন সহকারী শিক্ষক রেহানা আক্তার, আকলিমা বেগম, ও জান্নাত জাহান-এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০১৭ সালে সহকারী শিক্ষিকা রেহানা আক্তার অবৈধ ভাবে জেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে জোরপূর্বক দায়িত্ব নেয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ওই শিক্ষিকা নানা বিষয়ে তাকে হয়রানি ও বিব্রত করে আসছেন। রেহানা আক্তার ২০১৭ সালের মার্চ মাস হতে ১০ মাসের বেতন ভাতা আটকিয়ে দেয়। এমআরএ তার স্বাক্ষর না নিয়ে এমআর উপজেলা শিক্ষা অফিসে জমা দেয়। ঐ সময় রেহানা আক্তার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে তার নামে অনেক বানোয়াট অভিযোগ করে তার অনেক ক্ষতি করে।
এনায়েত হোসেনকে সমাজে অপদস্ত ও হেয় করার জন্য মানসিক রোগী হিসাবে সনাক্ত করতে চেষ্টা করে। ২০১৭ সালের শেষার্থে জারজিস আহম্মদ প্রধান শিক্ষক ( চলতি দায়িত্ব) নিয়ে এ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে তিনি কমিটি ও সহকারী শিক্ষকগণের যোগসাজশে তাকে মানসিক রোগী সাজিয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়ে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করানো হয়,এবং তার বেতন ভাতা আটকিয়ে দেয়। তার চাকরির অনেক ক্ষতি করে। কিন্তু এনায়েত হোসেনকে মানসিক রোগী হিসাবে সনাক্ত করতে পারেনি। তবে তাকে অর্থনৈতিক ও মানসিক ভাবে ব্যাপক ক্ষতি করেছেন।
এনায়েত হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ২০২০ সালে জারজিস আহমদ এ বিদ্যালয় থেকে বিদায় নেওয়ার সময় আমাকে দায়িত্ব না দিয়ে জেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে অবৈধ ভাবে সহকারী শিক্ষিকা আকলিমা বেগমকে দায়িত্ব দেন। ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের মার্চ মাস দায়িত্বে ছিলেন। তার দায়িত্ব থাকা কালিন বিদ্যালয়ের সরকারি বরাদ্দের টাকার কাজ না করে নিজে ভোগ করেন। ইতিপূর্বেও তিনি বিদ্যালয়ের বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ করার কারণে তাকে শাস্তিমূলক অন্য বিদ্যালয়ে বদলী করা হয়। তিনি সুযোগ বুঝে আবারও এই বিদ্যালয়ে বদলী হয়ে আসেন।
আমি এপ্রিল/২৬ ইং মাসে দায়িত্ব পাই। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে তারা সবাই নানাভাবে আমাকে হয়রানি করার চেষ্টা করছে। বিদ্যালয়ের কাজে অসহযোগিতা করছে। তারা সবসময় আমার সাথে অসদাচরণ করছে। কতৃপক্ষের কাছে আমি এর বিচার চাই।
মধ্য চরউভূতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এনায়েত হোসেন আরো বলেন, ০২/০৭/২৬ ইং তারিখ আমি বিদ্যালয়ের কিছু কাগজপত্র ফটোকপি করার জন্য বাজারে গিয়ে ছিলাম। কাজ সেরে ফিরে এসে দেখি ২টার দিকে শিক্ষকরা বিদ্যালয় ছুটি দিয়ে চলে যায়। খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার দিলরুবা লাইলী বিদ্যালয় পরিদর্শন করে আমাকে ছাড়া আর কাউকে বিদ্যালয়ে পায়নি। কিন্তু কোন কারণে তিনি দোষীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি জানি না। অথচ হাজিরা রেজিস্ট্রারে ওদের উপস্থিতি ২টায় লেখায় শিক্ষিকা জান্নাত জাহান ভাত খাওয়া অবস্থায় আমাকে আক্রমণ করে। আমাকে লাথি মারে, আমাকে মেরে পেলবে, আমার চাকরি খেয়ে পেলবে হুমকি দেয়। এবং বিভিন্ন অফিসে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগ করে। আমি কতৃপক্ষের কাছে এর প্রতিকার চাই।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ওই সহকারী শিক্ষক অসহযোগিতা করেন এবং বিভিন্ন সময় প্রধান শিক্ষককে মানসিকভাবে চাপে রাখার চেষ্টা করেন। এমনকি তাকে অবমাননা করা, হুমকি দেওয়া এবং বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করারও অভিযোগ রয়েছে।
লিখিত অভিযোগে দাবি করা হয়, সহকারী শিক্ষক নিয়মিতভাবে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান না করা, সময়মতো বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকা এবং বিদ্যালয়ের নিয়ম-শৃঙ্খলা যথাযথভাবে অনুসরণ না করার মতো আচরণ করে থাকেন। এসব কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলেও অভিযোগকারী উল্লেখ করেন।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, গত ২৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে ওই সহকারী শিক্ষক প্রধান শিক্ষককে চোখ খুলে দেওয়া ও জুতাপেটা করার হুমকি দেন। পরবর্তীতে ৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখেও তাকে আক্রমণ করে মারধরের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়া অভিযোগকারী দাবি করেন, বিদ্যালয় পরিদর্শনে আসা কর্মকর্তাদের সামনে পরিস্থিতি নিয়ে বিব্রতকর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন নথি, হাজিরা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ তুলে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগকারী এনাময়েত হোসেন বলেন, এসব ঘটনায় তিনি বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতা ও মানসিক চাপ অনুভব করছেন। বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার স্বার্থে বিষয়টির দ্রুত তদন্ত প্রয়োজন।
তবে অভিযোগে উল্লিখিত বিষয়গুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক জান্নাত জাহানের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
প্রতিবেদকের নোট: এটি একটি লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা প্রতিবেদন। অভিযোগগুলো তদন্তে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত। ( এই নিউজটি তিন পর্বে তৈরি করা হয়েছে। এটি ১ম পর্ব। চলবে)