সর্বশেষ সংবাদ

বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারে ঝুঁকিপূর্ণ’ কেউই থাকছে না

লেখক: বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা।
প্রকাশ: July 26, 2026

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের জন্য ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হতে পারে এমন কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তাকে আর প্রশাসনে রাখা হচ্ছে না। নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, সরকার প্রথমদিকে পরিস্থিতি গুছিয়ে নেওয়ার স্বার্থে অনেক বিষয় দেখেও কৌশলগত কারণে এড়িয়ে গেছে। তবে ক্ষমতার মেয়াদের প্রথম পাঁচ মাস পার হওয়ার পর এখন কোনো ব্যক্তি, সংস্থা বা গোষ্ঠীর কারণে ঝুঁকিপূর্ণ বা বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সুযোগ দিতে রাজি নয় সরকার। পাশাপাশি আস্থা বা বিশ্বাসযোগ্য নয় এমন কাউকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন বা অন্তর্ভুক্ত করা হবে না।

এছাড়া ‘ক্ষমতার বিকল্প কেন্দ্র’ হিসাবে পরিচিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারের আস্থাভাজন নয় এমন কাউকে রাখা হবে না। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী এবং এখনো গোপন যোগাযোগ থাকতে পারে এমন সন্দেহভাজনদের রাখা হবে না গুরুত্বপূর্ণ বা স্পর্শকাতর কোনো পদে। সূত্র জানাচ্ছে, এজন্য আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিতদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

তবে সরকারের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর মতে, আওয়ামী ঘনিষ্ঠদের ওপর কড়া নজর থাকলেও এ বিষয়ে এখনই তাড়াহুড়ো করে কোনো পদক্ষেপ নিতে চায় না সরকার। সংশ্লিষ্টরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, সঠিক বিচার-বিশ্লেষণ এবং সতর্ক বিবেচনার মাধ্যমেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর নানা অভিযোগে ইতোমধ্যে ৬৭ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর আওয়ামী ঘনিষ্ঠতা এবং নানা নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে আরও অর্ধশতাধিক কর্মকর্তাকে। একইভাবে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর প্রশাসনের ৯ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও সরকারের ১৩ জন সচিব, ২২ জন জেলা প্রশাসক ও চুক্তিভিত্তিক ১০১ জনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, সরকারের পর্যালোচনায় ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে বিবেচিত হওয়ায় সম্প্রতি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনকে সরে দাঁড়ানোর জন্য বার্তা দেওয়া হলে শুক্রবার তিনি পদত্যাগ করেন। এছাড়া দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন-এমন সব শক্তি ও ব্যক্তির ক্ষেত্রেও একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এখনই কারও নাম প্রকাশ করতে রাজি হয়নি।