
চাঁদের বুড়ির চিঠি -৪
—– এম জেড মাহমুদ।
সেদিন সকাল থেকে আকাশে মেঘ। বৃষ্টি হবে করছে। রুপার মনটা কেমন যেন করছিল।
বিকেলে বৃষ্টি থামতেই জানালার পাশে খাম। ভিজে যায়নি একটুও। যেন কেউ খুব যত্ন করে রেখে গেছে।
খুলতেই ভেতর থেকে একটা ভাঁজ করা কাগজের ঘুড়ি আর চিঠি বের হল।
চিঠিতে লেখা:
“প্রিয় রুপা,
আজ আকাশে অনেক মেঘ। আমারও মন খারাপ ছিল। ভাবলাম তোমারও হয়তো।
তাই তোমাকে একটা কাজ দিলাম।
এই কাগজের ঘুড়িটা নাও। এর একপাশে তোমার সব মন খারাপের কথা লিখে ফেলো। আরেক পাশে ১টা সুন্দর স্মৃতি।
তারপর ঘুড়িটা ছাদে নিয়ে উড়াও। বাতাসে মন খারাপের লেখাটা উড়ে যাবে, আর স্মৃতিটা থেকে যাবে তোমার কাছে।
জানো, মেঘ থাকলেই বৃষ্টি হয় না। আবার বৃষ্টি হলেই সব ধুয়ে যায় না। কিছু কথা জমিয়ে রাখতে হয়, কিছু কথা উড়িয়ে দিতে হয়।
তুমি পেরে যাবে।
ইতি,
চাঁদের বুড়ি
পুনশ্চ: ছাদের কোণে আমার জন্য এক কাপ চা রেখো। আমি গন্ধটা নিয়ে নেব।”
রুপা তাই করল। ঘুড়ির একপাশে লিখল “বাবা দূরে থাকলে কষ্ট হয়”। আরেক পাশে লিখল “বাবা ফিরে আসায় একসাথে ভাত খাওয়া”।
ঘুড়িটা আকাশে উড়তেই হঠাৎ মেঘের ফাঁক দিয়ে রোদ বের হল। রুপার মনে হল চাঁদের বুড়ি ছাদের কোণে বসে চা খাচ্ছে আর মুচকি হাসছে।
সেই রাতে রুপা ঘুমানোর আগে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল, “ধন্যবাদ বুড়ি”।
উপর থেকে যেন একটা তারা টুপ করে নড়ে উঠল।