
চাঁদের বুড়ির চিঠি -৩
—— এম জেড মাহমুদ।
সেদিন আকাশে গোল থালার মতো চাঁদ। রুপা ছাদে মাদুর পেতে শুয়ে ছিল। হঠাৎ ঠান্ডা বাতাসে জানালার পাশের কাগজটা নড়ে উঠল।
সকালে খাম খুলে দেখে এবার চিঠির সাথে একটা ছোট্ট কাচের শিশি। ভেতরে চাঁদের আলোর মতো সাদা ধুলো।
চিঠিতে লেখা:
“প্রিয় রুপা,
আজ পূর্ণিমা। আকাশে আমার সবচেয়ে প্রিয় রাত।
তোমার জন্য একটুখানি চাঁদের আলো পাঠালাম। শিশির বোতলটা রাতে জানালার কাছে রেখো। ঘরটা নরম আলোয় ভরে যাবে।
আর একটা কাজ করবে? আজ রাতে ঘুমানোর আগে ৩টা জিনিসের কথা ভাববে যার জন্য তুমি কৃতজ্ঞ। তারপর চোখ বন্ধ করলেই দেখবে, আমি তোমার স্বপ্নে আসব।
আমরা গল্প করব নদীর পাড়ে। তুমি ঘুড়ি ওড়াবে, আমি মেঘের নৌকায় বসে দেখব।
ভালো থেকো। বড় হও। কিন্তু ছোটবেলার বিস্ময়টা হারিও না।
ইতি,
চাঁদের বুড়ি
পুনশ্চ: তোমার বাবার জন্য একটা কথা – ‘দেরিতে হলেও ফেরা মানুষগুলোই সবচেয়ে আপন হয়’।”
রাতের বেলা রুপা শিশিটা জানালায় রাখল। সত্যি ঘরটা জোছনার মতো নরম হয়ে গেল। ঘুমের মধ্যে সে দেখল, নদীর পাড়ে এক বুড়ি বসে আছে। সাদা শাড়ি, হাতে বেতের ঝুড়ি। রুপাকে দেখে বলল, “ঘুড়িটা ওড়া”।
ঘুম ভেঙে রুপার মনে হল, চাঁদের বুড়ি আসলে দূরের কেউ না। সে হল আমাদের মনের সেই অংশ, যে অন্ধকারেও আলো খুঁজে পায়।
পরের চিঠিতে চাঁদের বুড়ি কী পাঠাবে বলো তো? কোনো ধাঁধা, নাকি একটা গান?