সর্বশেষ সংবাদ

চাঁদের বুড়ির চিঠি-১ — এম জেড মাহমুদ।

লেখক: এম জেড মাহমুদ।
প্রকাশ: July 17, 2026

চাঁদের বুড়ির চিঠি-১
— এম জেড মাহমুদ।

লাকসামের ছোট্ট গ্রামে নদীর পাড়ে থাকত রুপা। দশ বছরের মেয়ে। বাবা শহরে কাজ করে, মাসে একবার আসে। মা আর রুপা দুইজনেই রাতের বেলা উঠানে বসে আকাশ দেখত।
একদিন রুপা আকাশে খুব বড় একটা চাঁদ দেখে বলল, “মা, চাঁদের বুড়ি কি একা থাকে?”
মা হেসে বলল, “হয়তো। তাই তো সে রোজ আমাদের দেখে।”

সেই রাতেই অদ্ভুত কিছু হল। রুপা ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখল, চাঁদ থেকে একটা সাদা খাম ভেসে এসে তার বালিশের পাশে পড়ল। খামের গায়ে লেখা: “রুপার জন্য”।

সকালে উঠে দেখে বালিশের পাশে সত্যি একটা খাম। ভেতরে চাঁদের আলোর মতো ঝকঝকে কাগজ। তাতে লেখা:

“প্রিয় রুপা,
আমি চাঁদের বুড়ি। রোজ রাতে তোমাকে আর তোমার মাকে উঠানে বসে থাকতে দেখি। তোমাদের গল্প শুনতে আমার খুব ভালো লাগে। তুমি কি আমার বন্ধু হবে?
আজ রাতে জানালার পাশে একটা কাগজ আর কলম রেখো। তোমার কথা লিখে রেখো। আমি পড়ে নেব।
ইতি,
চাঁদের বুড়ি”

রুপা সারাদিন উত্তেজনায় কাটাল। রাতে সত্যি জানালার পাশে চিঠি রেখে ঘুমাল। লিখল, “আমার বাবাকে খুব মনে পড়ে। আর নদীর পাড়ে ঘুড়ি ওড়াতে ইচ্ছে করে।”

পরদিন আবার খাম। এবার ভেতরে শুকনো বেলি ফুল আর লেখা: “নদীর পাড়ে কাল বিকেলে যেও। একটা সারপ্রাইজ আছে।”

বিকেলে নদীর পাড়ে গিয়ে রুপা দেখে, একটা নতুন ঘুড়ি বাঁশের সাথে বাঁধা। আর তার সাথে ছোট্ট চিরকুট: “এটা উড়াও। আমি উপর থেকে দেখব।”

সেদিন থেকে প্রতি পূর্ণিমায় চিঠি আসত। কখনো গল্প, কখনো ধাঁধা, কখনো শুধু এক লাইন: “আজ তোমার হাসিটা সুন্দর ছিল”।

এক বছর পর বাবা বাড়ি ফিরে এল স্থায়ীভাবে। সেদিন রাতে রুপা জানালায় আর চিঠি রাখেনি। কিন্তু চাঁদটা আগের চেয়ে বেশি উজ্জ্বল লাগছিল।

অনেক বছর পর, রুপা যখন বড় হয়ে নিজেই মা হল, সেও তার মেয়েকে নিয়ে উঠানে বসে আকাশ দেখে। আর মাঝে মাঝে বলে, “জানো, চাঁদের বুড়ি একা না। সে আমাদের সবার কথা শোনে।”

কেউ কেউ বলে ওটা নিছক স্বপ্ন ছিল। রুপা শুধু হাসে। কারণ কিছু সুন্দর জিনিসের ব্যাখ্যা লাগে না। শুধু বিশ্বাস করলেই হয়।