ভোলা জেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিস গুলিতে ‘তিন বোনের আধিপত্য - দৈনিক একালের খবর

ভোলা জেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিস গুলিতে ‘তিন বোনের আধিপত্য

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: December 3, 2025

রেশমা চৌধুরী।। 

ভোলা জেলার বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘ দুই যুগ ধরে একই জেলায় কর্মরত তিন নারী কর্মকর্তা–এমন একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি ও দালালচক্র সক্রিয় রাখার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সেবা–প্রত্যাশীরা দাবি করছেন—এই তিনজন মিলিতভাবে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোকে “দুর্নীতির ঘাঁটি” হিসেবে পরিণত করেছে।

দুই যুগ একই জেলায়: সরকারি নীতিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন

সরকারের প্রশাসনিক ও ট্রান্সফার নীতিমালা অনুযায়ী
একই কর্মস্থলে বা একই জেলায় দীর্ঘদিন অবস্থান কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত
সাধারণত ৩–৫ বছরের বেশি একই জেলায় কর্মরত থাকা অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের ঝুঁকি তৈরি করে

কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ভোলা জেলায় এই তিনজন নারী কর্মকর্তা ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে একটানা একই জেলায় অবস্থান করছেন, যা নীতিমালার সৌজন্যেই প্রশ্নবিদ্ধ।

স্থানীয়দের অভিযোগ—এই দীর্ঘ অবস্থানই তাদেরকে অস্বাভাবিক ক্ষমতা, দালালচক্রের সমর্থন এবং অফিসের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ করে দিয়েছে।

সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ: অতিরিক্ত টাকা, ভয়ভীতি ও ঘুরপাক খাওয়ানো

বিভিন্ন দলিল গ্রহীতা ও সাধারণ মানুষ অভিযোগ করেন—দলিল নিবন্ধনের নামে অতিরিক্ত টাকা দাবি

সরকারি ফি ছাড়াও “বিনা পয়সায় কিছু হয় না”—এমন পরিবেশ তৈরি করা
দালালদের ছাড়া কাজ নেয় না—এমন ধারণা জোর করে প্রতিষ্ঠা,
কাজ বিলম্ব, নথি আটকে রাখা, ভয়ভীতি
দলিল যাচাই-বাছাইয়ে অযথা জটিলতা সৃষ্টি

কেউ কেউ অভিযোগ করেন—এই তিন বোন মিলে পুরো অফিসগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করেন, যার ফলে সাধারণ মানুষ ন্যায্য সরকারি সেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ: ‘যেন ব্যক্তিগত সাম্রাজ্য’
স্থানীয় কয়েকজন প্রবীণ নাগরিক বলেন—
“সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গেলে মনে হয় সরকারি অফিসে নয়, কারো ব্যক্তিগত রাজত্বে ঢুকেছি। যারা বছর পর বছর একই জায়গায় বসে আছে তাদের হাত থেকে কেউ রেহাই পাচ্ছে না।”

“সরকারি সেবার জন্য টাকা দিয়েও হয়রানির শেষ নেই। দালাল ছাড়া কোনো কাজ হয় না।”

আইন মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা বাস্তবায়নে গাফিলতির অভিযোগ-ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন—

কিভাবে তারা এত দীর্ঘ সময় একই জেলায় থাকতে পারছে?নিয়মিত মনিটরিং কি হয় না?
বদলি নীতিমালা কি শুধু কাগজেই রয়ে গেছে?

অভিযোগকারীরা মনে করেন—এমন পরিস্থিতিতে আইন মন্ত্রণালয়ের সরাসরি হস্তক্ষেপ ছাড়া অনিয়ম বন্ধ হবে না।

সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীদের দাবি—
দুদক সরেজমিনে তদন্ত করুক
জেলা প্রশাসন অফিসগুলোতে নজরদারি বাড়াক
আইন মন্ত্রণালয় নীতিমালা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ব্যাখ্যা ও ব্যবস্থা নিক। তারা আরও বলেন,
একটি জেলার সমস্ত সাব-রেজিস্ট্রি অফিস একজন পরিবারকেন্দ্রিক প্রভাবের আওতায় থাকা প্রশাসনিকভাবে বিপজ্জনক।”

উক্ত বিষয় নিয়ে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তারা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রদান করলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।